টেকসই জ্বালানী অর্জনে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন

April 28, 2020
453
Views

টেকসই জ্বালানী অর্জনে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন
(বণিক বার্তায় ২০১৮ সালে প্রকাশিত)

    -ড. শাহ্ মোঃ আহসান হাবীব

নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানী সাশ্রয়ী ব্যবস্থার উন্নয়ন টেকসই জ্বালানী ব্যবস্থার প্রধান অনুষঙ্গ। বিশ্বব্যাপী উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের নীতিনির্ধারকরা এ দুটি বিষয়ের উপর ক্রমাগতভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নের গতি অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত জ্বালানী সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত। আর এ কারণে পর্যাপ্ত জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা বিশ্বের উন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষতঃ উন্নয়নশীল দেশগুলো এ বিষয়ে দিন দিন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিনিয়ত অ-নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাবও বাড়ছে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে অর্থাৎ সব ধরণের অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে তা বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাসের ব্যাপক বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। আর পৃথিবীতে তথা পরিবেশে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকট এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকি একই সাথে সকল দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সূচক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। এহেন পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানী চাহিদা মেটানোর জন্য নবায়নযোগ্য এবং সাশ্রয়ী জ্বালানী ব্যবস্থার উন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনার কোন বিকল্প নাই। আর এ কারণে বিশ্বের উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও অর্থায়ন করছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এ দুটিকে যথাযথ প্রাধ্যান্য দিয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানীর অধিকতর উৎপাদন এবং এর ব্যবহার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সর্বস্তরে এটা অনূভূত হওয়া জরুরী যে, যত বেশী জ্বালানী সাশ্রয় হবে, পরিবেশের উপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও কম তত কম হবে। তাছাড়া এর ফলে আমদানিকৃত তেলের উপর নির্ভরতাও কম হবে। আর এসবের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো ব্যয় হ্রাস পাওয়া। তাছাড়া কার্যকরী জ্বালানীর ব্যবহারে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পাবে। ফলে লভ্যাংশের হারও বৃদ্ধি পাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর সঠিক ব্যবহার এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জ্বালানী সাশ্রয় ব্যতীত টেকসই জ্বালানী ব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

একথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন ও উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগগুলো অনেক দেরীতে শুরু হয়েছে। তবে দেরীতে হলেও ইতোমধ্যে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন সাধিত হয়েছে। বিশেষতঃ সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল এর মাধ্যমে অফ-গ্রীড এলাকায় গৃহে বিদ্যুৎ সরবরাহ (সোলার হোম সিস্টেম) ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি সৌর ,বিদ্যুৎ, বাতাস, বর্জ্য, বায়োগ্যাস এবং হাইেেড্রা-পাওয়ারের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদনের বার্ষিক একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামোগতসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। বিশেষতঃ জ্বালানী খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা জরুরী যেখানে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে জ্বালানী চাহিদা বাড়ছে। ব্যাপক শিল্পায়ন এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানী উৎপাদন করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। জ্বালানীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ না হলে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে না। সকল সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও জ্বালানীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না।

জ্বালানী সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে একটি জ্বালানী সাশ্রয় বাস্তবায়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। জ্বালানীর চাহিদা এবং যোগানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার খাতগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে এর ভিত্তিতে স্বল্প এবং দ্রæততম সময়ে জ্বালানী সরবরাহ করে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই এর মূল লক্ষ্য। এই মূল পরিকল্পনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত জ্বালানী সাশ্রয়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে – যেখানে জ্বালানী ব্যবস্থা, কার্যকর জ্বালানী চিহ্নিত করা, এ খাতে অর্থায়ন, জনসচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়গুলি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানী সংক্রান্ত বিশেষতঃ নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতের সব ধরণের কর্ম পরিকল্পনার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করছে। এ কাজকে আেেরা গতিশীল ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার ২০১২ সালে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী কর্তৃপক্ষ (¯্রডো) নামে পৃথক একটি সংস্থা তৈরী করে। ¯্রডো মুলতঃ সরকারের টেকসই জ¦ালানী নীতিমালা কৌশল প্রণয়ন করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার, সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া সরকারী এবং বেসরকারী খাতে জ্বালানী সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সরকার ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎপাদন এবং জ্বালানী সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ¯্রডো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থাও অর্থায়ন করেছে। পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা, এনজিও এ ধরণের প্রকল্পে বাস্তবায়নকারীর ভূমিকায় রয়েছে। এর সাথে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক কিছু কিছু দাতা সংস্থার বিনিয়োগ এবং অর্থায়ন এ খাতে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এসব দাতা সংস্থা ¯্রডোর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের পাশাপাশি চাহিদা এবং পারিপার্শ্বিকতা বিচার করে বিভিন্ন পাইলট প্রকল্পে ¯্রডোর মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। এসব উদ্যোগের ফলে বেশ কিছুটা অগ্রগতি হলেও এ খাতের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অধিকতর বিনিয়োগ এবং প্রচেষ্টার কোন বিকল্প নেই।

নবায়নযোগ্য জ্বালানী এবং জ্বালানী সাশ্রয়ী কার্যক্রমের অন্যতম অংশীদার হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং ও অর্থায়ন কার্যক্রমের আওতায় একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে/ করছে। ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্র্ধারকরা এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে সম্পদের অপ্রতুলতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে, সেখানে ব্যাপক অর্থায়নই একমাত্র শক্তিশালী মাধ্যম যা পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও টেকসই জ্বালানী খাতে দ্রæত সফলতা আনতে পারে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহীত নীতিমালা বড় ভূমিকা রাখছে। পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং সম্পর্কিত একটি সমন্বিত নীতিমালার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অর্থায়ন’ সম্পর্কিত একটি পরিপত্রও জারি করেছে। এছাড়া এ খাতে বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পও চালু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহীত এসব নীতিমালা ব্যাংকিং খাতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের সুবাদে টেকসই জ্বালানী উৎপাদন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্খিত এবং ইতিবাচক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। তবে ২০১৫ সালেও এই হার ছিল ৫ শতাংশের অনেক কম। এখনো পর্যন্ত এ হার নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছেনি। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল) উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংক ব্যতীত অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ইডকল জ্বালানী খাত সম্পর্কিত অর্থায়নের ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে চিহ্নিত যারা মূলতঃ দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। মূলতঃ সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইডকল নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ইডকল বেসরকারী খাতে অর্থায়নের পাশাপাশি এসব প্রকল্পে প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা প্রদান, অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কম কার্বন নিঃসরণের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে। কিছু কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এ সম্পর্কিত কার্যক্রমও প্রশংসার দাবীদার।

টেকসই জ্বালানী খাতে অর্থায়ন ছাড়াও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ডের আওতায় জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর সাথে কৃষি ও গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কারিগরী ব্যবস্থার উন্নয়নও সম্পৃক্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে গৃহে সৌর বিদ্যুৎ সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয় যার মাধ্যমে জ্বালানী ব্যবহারের নিশ্চয়তার পাশাপাশি উন্নত জীবনযাপন ও গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে।

গ্রামীন জনপদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে জ্বালানী ব্যবহার ও সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও অধিকতর মনোযোগী হয়েছে। এর ফলে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরো ত্বরান্বিত হবে। কোন কোন ব্যাংক ইতোমধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে শাখা ব্যাংকের কার্যক্রম এবং এটিএম বুথ পরিচালনা করছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। গত ৫ বছরে সৌর জ্বালানী, বায়োগ্যাস, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠানে এসব পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক অর্থায়ন করা হয়েছে। যদিও এর আওতায় ৫০টি অর্থায়ন পণ্য রয়েছে, তবু সংশ্লিষ্টদের কাছে মাত্র কয়েকটি প্রকল্প অধিক জনপ্রিয়।

সফলতার জন্য টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানী সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে অংশীদারী পক্ষের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং কর্তৃপক্ষ অন্যতম অংশীদারী পক্ষ হিসেবে বিবেচিত। বিশদভাবে বলতে গেলে মূল নীতিনির্ধারকবৃন্দ, বিধিমালা প্রণয়নকারী, এজেন্সী/প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়. সুুশীল সমাজ, যোগাযোগকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম এমনকি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোও অংশীদারী পক্ষের অন্তর্ভূক্ত। টেকসই, কার্যকরী এবং ব্যাপক অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের সকল অংশীদারী পক্ষের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ¯্রডো উভয়ই নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। তবে সকল অংশীদারী পক্ষের সমন্বিত উদোগ ব্যতীত এ খাতে দ্রæত ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না।

টেকসই জ্বালানী ব্যবহারের অধিকাংশ গ্রাহকই প্রত্যন্ত এলাকাভিত্তিক এবং পরিবেশবান্ধব ঋণের আওতায় প্রত্যন্ত এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠী ব্যাংকের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে। তাছাড়া পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি টেকসই জ্বালানী খাতে নতুন নতুন বিকল্প পন্থার উদ্ভাবন গ্রামীণ জীবন যাপনের মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে, দারিদ্র্যসীমায় বসবাসকারী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থায়নের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন করে টেকসই ও পরিবশেবান্ধব কার্যক্রমের লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব। তাছাড়া এর ফলে গ্রামীণ জনপদে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরী হচ্ছে ।

টেকসই জ্বালানী খাতে ব্যাংক অনেক সময় সরাসরি অর্থায়ন করলেও কোন কোন ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর সাহায্যও গ্রহণ করছে। যদিও সরাসরি অর্থায়ন ব্যাংকের জন্য সুবিধাজনক, তবুও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনেক সময় সঠিক গ্রাহক চিহ্নিত করা সহজসাধ্য হয় না। এক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য গ্রহণ করে থাকে। তবে এ ব্যবস্থায় সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে যা শেষ পর্যন্ত সুবিধা ভোগকারীকেই বহন করতে হয়। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থায়ন অধিকতর কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিশেষতঃ স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরী এবং উৎসাহব্যঞ্জক হয়েছে।

টেকসই জ্বালানীর উন্নয়ন এবং জ্বালানী সাশ্রয়ী এসব পদ্ধতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির সঠিক মান ধরে রাখা। তাছাড়া বিক্রয় এবং স্থাপন পরবর্তী সেবা প্রদানের বিষয়টিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। তাছাড়া এসব প্রকল্পে যে ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন তা ও আমাদের দেশে যথেষ্ট নয়।

অনেক প্রতিবন্ধকতার মাঝেও টেকসই জ্বালানী এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। এ কথা সত্য যে, সংশ্লিষ্ট কিছু কিছু পদক্ষেপ যথাযথ ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি। তবে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইতোমধ্যে একটি যথাযথ ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। সকল অংশীদারী পক্ষের সহযোগিতা ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

লেখক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব্ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর অধ্যাপক ও পরিচালক প্রশিক্ষণ হিসেবে কর্মরত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *