বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতঃ আস্থা বা অনাস্থা

April 28, 2020
514
Views

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতঃ আস্থা বা অনাস্থা
(বর্ণিক বার্তায় ২০১৯ সালে প্রকাশিত)

                                                                              -ড. শাহ্ মোঃ আহসান হাবীব

আজকাল পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা বা অনাস্থার বিষয়টি উঠে আসছে। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরণের অনাস্থা কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ও একটি বা কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কারণ নেই। আর্থিক অবস্থা বা কোন কেলেঙ্কারীর জন্য সাময়িকভাবে তা অবশ্যই শঙ্কা বা চাপের কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। এ ধরণের তথ্য ও ঘটনার প্রকাশ নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সহায়তা করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভোক্তা, গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারী পক্ষের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য উপাত্তের সন্নিবেশ করা হয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

বেশ কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে ব্যাংকভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যেত না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক সুবিন্যস্তভাবে তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করে জনসচেতনতা এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে। প্রতি বছর আর্থিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাত সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১০ সাল থেকে সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করছে, যা আর্থিক বাজার পরিবর্ধনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস। এ পরিবর্ধন আমাদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে একটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করার। এটি অনাস্থা নয়, বরং এর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে আস্থার বিষয়।

গত দশকে উন্নয়নের গতির ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য অধিক পরিমাণ বিনিয়োগের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। এ জন্য অভ্যন্তরীণ বেসরকারী বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকষর্ণেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকষর্ণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু খাতে সফলতা অর্জিত হলেও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলতঃ অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকিং শিল্পই মূলতঃ এককভাবে বেসরকারী বিনিয়োগের অর্থের যোগানদার। সুতরাং এ খাতের স্বাস্থ্য রক্ষা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকের আস্থা অক্ষুন্ন রাখা দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য অতীব জরুরী।

বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বৃহৎ পরিসরে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিক পণ্য/সেবা প্রদান করছে। আমানত ও ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণের প্রবাহ কাঙ্খিত পর্যায়ে না নেয়া সম্ভব হলেও গ্রামাঞ্চল থেকে আমানত সংগ্রহের অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন এবং উন্নয়নের পাশাপাশি তদারকী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকী করার বিষয়টিও নিবিড় হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানুয়ারী ২০১৫ সাল থেকে বাসেল-৩ কার্যকর করেছে এবং এর আলোকে ব্যাংকের পুঁজি বৃদ্ধির জন্য একটি রোডম্যাপ নির্ধারণ করেছে। সার্বিকভাবে একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলার জন্য দূর্বলতা এবং ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত করে তা দূর করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের কারণে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ব্যাংকের শাখাগুলো অধিকতর নিবিড় তদারকী এবং পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে এবং গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম পরিচালন সম্পর্কিত একাধিক কর্মসূচী গ্রহণ করার পর কোন কোন সূচকের বিচারে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত অনেকটাই পরিণত এবং শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। মূলতঃ ঋণ কার্যক্রম পরিচালন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বলা যায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং, অনলাইন ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো, আইনি সহায়তা, প্রয়োজনমাফিক সফটওয়্যার, সর্বোপরি দক্ষ ও মেধাবী ব্যাংকারদের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার স্বার্থে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিভিন্ন কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। “কার্যকরী তদারকী ব্যবস্থা” গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বিধিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং খাত এর কর্মকান্ডে কার্যকর তদারকী ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২০১৫-২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিতীয় পঞ্চ বার্ষিকী কৌশলগত পরিপত্র ঘোষণা করা হয়, যেখানে সুষম এবং সমন্বিত মুদ্রানীতি, সঠিক বিধিমালা এবং মানব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মুদ্রানীতিতে টেকসই ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সন্নিবেশ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস করার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষতঃ মানি লন্ডারিং রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরণের উদ্যোগ ব্যাংকিং শিল্পের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হওয়ার কথা।

সেবা প্রদানের সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানোর কারণে ব্যাংকিং খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তদারকী ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপদ ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ‘ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)’ থেকে এখন অনলাইনে যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান করা যাচ্ছে যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। ‘বাংলাদেশ অটোমোটেড ক্লিয়ারিং হাউস ( বিএসিএএইচ);‘বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক ( বিইএফটিএন)’ এবং ‘ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনএফটি)’ ইত্যাদি আমাদের ব্যাংকিং ইতিহাসের অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে উল্লেযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে এসব ব্যাংক অগ্রবর্তী ভুমিকা পালন করেছে নতুন নতুন পণ্য, সেবা এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। কিছু কিছু ব্যাংক নিজস্ব ইন্টারনেট অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা প্রদান করছে।

আর্থিক অর্ন্তভূক্তি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্রতা দূরীকরণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। দেশের একটি বড় অংশকে এখনো বিদ্যমান ব্যাংকিং আমানত ও ঋণ সেবার আওতায় আনা যায়নি। বিশেষতঃ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা স্বল্প সময়ের মধ্যে নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে অর্থ লেনদেনের সহজ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং ইতোমধ্যে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনজীবনে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। বিশেষতঃ মোবাইল ব্যাংকিং এর সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক অর্ন্তভূক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ধরণের লেনদেন বা পেমেন্ট সেবা একেবারে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সংজ্ঞার মূল স্থপতি না হলেও সার্বিকভাবে আর্থিক সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতো দ্রæত গতিতে মোবাইল ব্যাংকিং এর বিস্তার আর্থিক লেনদেনকে সহজতর করেছে এবং আর্থিক অর্ন্তভূক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এ আর্থিক সুবিধার প্রকৃত প্রভাব এবং পরিবর্তন গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বেশ কিছু ব্যাংকের পদক্ষেপের পরেও একটি বড় অংশের নি¤œ আয়ের মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসলেও, তাদের ব্যাংকের ঋণ সেবার আওতায় আনার জন্য ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন।

ডিজিটাল ব্যাংকিং আর্থিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত শিক্ষা, সচেতনতার বিকাশে বিশেষ ভ‚মিকা রাখছে। যে শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো স্বল্প আয়ের গ্রামীণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি, সে কাজটি বাস্তবায়নে অনেক দূর এগিয়েছে মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা। আজকের গ্রামীণ এবং স্বল্প আয়ের মানুষ আর্থিক সেবা গ্রহণের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত তথ্য ও জ্ঞান আহরণের সুযোগ পাচ্ছে ঘরে বসে বা নিজের এলাকাতেই। গ্রামীণ কিছু স্কুলেও ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে -যা আর্থিক সেবা সংক্রান্ত শিক্ষার বিকাশে ভ‚মিকা রাখছে। বলা হয়ে থাকে অনলাইন ব্যাংকিং সবুজ ব্যাংকিং এর প্রাথমিক ধাপ। বর্তমানে বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়নের বেশীর ভাগ গ্রাহক গ্রামীণ স্বল্প আয়ের জনগণ, যা আর্থিক অন্তর্ভূক্তির বিকাশে ভ‚মিকা রাখছে।

কিছু কিছু ব্যাংকের ঋণ খেলাপী সমস্যা নীতিনির্ধারক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশীদারী পক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ। পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। এ সমস্যা সমাধানে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। সার্বিকভাবে সুশাসনের অভাব কিছু কিছু ব্যাংকের জন্য উদ্বেগজনক, আবার পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতায় ও ব্যাংক নেতৃত্বের দক্ষতায় ব্যাংকের দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নিদর্শনও বাংলাদেশে আছে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি দূর্বলতার দিকগুলো তথ্য উপাত্তের সহজলভ্যতার কারণে যেভাবে প্রচারিত হয়েছে, সফলতার দিকগুলো সেভাবে প্রচারিত হয়নি। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গত কয়েক বছরে বেশীরভাগ বেসরকারী ব্যাংকের ঝুঁকি নিরসন সক্ষমতা উল্ল্খেযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যাংকিং একটি স্পর্শকাতর খাত। ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত যে কোন মন্তব্য এবং বক্তব্য এমনকি খবর গণমাধ্যমের সুবাদে সাধারণ গ্রাহককে প্রভাবিত করতে পারে। ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত যে কোন আলোচনা বা পর্যালোচনা এ খাতের ব্যর্থতা ও দূর্বলতার পাশাপাশি সফলতা ও সক্ষমতার দিকগুলো সমানভাবে বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীর ভিন্নতা থাকলেও ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত যে কোন পর্যালোচনা একদিকে যেমন ব্যাংকিং খাতের দূর্বলতাগুলোকে তুলে এনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে, তেমনি অন্যদিকে সফল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ জোগাবে-এটাই কাম্য ।

লেখক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব্ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর অধ্যাপক ও পরিচালক (প্রশিক্ষণ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *